Error message

Deprecated function: The each() function is deprecated. This message will be suppressed on further calls in _menu_load_objects() (line 579 of /home/trave428/public_html/includes/menu.inc).

গোয়া - ঈশ্বরের সন্ধানে

Goa street carnival with loud drumbeats and gorgeous colors

গোয়ার ডাবোলিম আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সূর্যস্নাত একটা দিনে পৌঁছেছিলাম প্রায় আট বছর আগে। 2010 এর ফেব্রুয়ারী মাসে। আমি আর আমার স্ত্রী কেকা। ছোট্ট ছিমছাম বিমানবন্দর। আমি নিশ্চিন্ত। এখানে হারিয়ে যাওয়ার জায়গা নেই। মুম্বাই দিল্লিতে মালপত্র সমেত বিমানবন্দরের বাইরে আসাই একটা চরম পরীক্ষা। গুচ্ছেরেক কনভেয়ার বেল্টের মধ্যে সঠিকটি খোঁজা, তারপর বিভিন্নদিকে ধাবমান যাত্রীদের মধ্যে কোনদিকে এক্সিট বুঝে নেওয়া। আমার কাছে বিভ্রান্তির একশেষ। এখানে নেই পথের বা পথ নির্দেশিকার জটিলতা। অতএব চটপট বাইরে আসা গেল। বাইরে বেরিয়ে প্রথমেই আমার নজর কাড়লো ঝকঝকে রোদ আর নির্মল বাতাস। আহা, চোখ ও প্রাণের কি আরাম। আমি ভাললাগায় ভেসে গেলাম।

আট বছর আগের স্মৃতিবিধৃত কিছু কথা ও ছবি এখানে রাখলাম। তবে কালানুক্রমিক ভাবে নয়। মনের পর্দায় যখন যেটা ভেসে ওঠে সেই ক্রমানুসারে।

আস্তানা গেড়েছিলাম ভাস্কো-দা-গামা শহরে। আমার এক অনুজপ্রতিম বন্ধু, তার বাসস্থানে। আমরা গোয়ায় পৌঁছানোর পরের দিন আমাদের আরেক তরুণ বন্ধু, মুম্বাইতে কর্মরতা, আমাদের ডাক উপেক্ষা করতে না পেরে উপস্থিত হল ভাস্কোয়। সঙ্গে নিয়ে এল একমুখ হাসি আর তারুণ্যের উচ্ছলতা।

ভাস্কো গোয়ার দীর্ঘ সমুদ্র-উপকূলের মধ্যবর্তী স্থানে| ডাবোলিম আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে খুব কাছে। যেখানে ছিলাম, সমুদ্র তার কাছেই, তবে সমুদ্র দেখা যায় না। চার কামরাওয়ালা বাড়ি, পুরনো ধাঁচের। নজরে পড়েছিল দেওয়াল আলমারিতে রাখা বহুমূল্য কাঁচের বাসন। বাড়িওয়ালা রেখে গেছেন। তাঁর বাড়িতে জায়গা নেই। বলে গেছেন, থাকল এগুলো, প্রয়োজন পড়লে ব্যবহার করবেন। আর মনে বসে আছে আরেকটা ছবি। দোতলার মস্ত ব্যালকনি তে এক সন্ধ্যায় উড়ে এসে বসলো এক লক্ষ্মীপ্যাঁচা। তাকে না জানিয়ে চুপ করে ছবি তোলার চেষ্টা করেছি। বেশ কিছুক্ষণ বসে সে চলে যায়। তার ক্ষণকালের উপস্থিতিতে আমার বন্ধুর লক্ষ্মীলাভ হয়েছিল কি না জানি না।

ভাস্কোর বাড়ির ব্যালকনিতে লক্ষ্মীপ্যাঁচা

ভাস্কোর বাড়ির ব্যালকনিতে লক্ষ্মীপ্যাঁচা

একাধিক সমুদ্রসৈকত ভাস্কো শহরের কাছেই। সবচেয়ে সুন্দর বোধহয় বগমালো বীচ। বেশী করে চোখ টেনেছিল বীচের ধারে ফুডজয়েন্ট গুলো।

বগমালো বীচে এক ফুড জয়েন্ট

বগমালো বীচে এক ফুড জয়েন্ট

ঈশ্বরের সন্ধানে আমি ঘুরে বেড়াই। তাঁকে স্বপ্নে দেখি, কখনো সখনো মনে টের পাই তাঁর উপস্থিতি। স্বপ্নের মাঝে আকাশপথে তিনি আসেন। কিম্বা সুদূর পাকদন্ডী পথ পার হয়ে। আমার মনের আঁধার এক লহমায় অদৃশ্য হয়। কিন্তু মুহূর্তে হারাই তাঁকে| বগমালো বীচে কি এসেছিলেন তিনি? বগমালো বীচ আমার বন্ধুর ডেরার কাছেই। বেশ কয়েকবার যাওয়া হল। কিন্তু সন্ধ্যায়। ট্যুরিস্টদের জন্য সাজানো পসরা নিয়ে কিছু দোকান।

বগমালোতে সাজানো পসরা

বগমালোতে সাজানো পসরা

সেগুলো পেরিয়ে সমুদ্রমুখো হলেই বীচের ধার ঘেঁসে বেশ কয়েকটি ফুড জয়েন্ট। প্রথম সন্ধ্যায় এমনই একটি জয়েন্টে হানা দিলাম আমরা। ছিমছাম এথনিক চেহারা। মায়াবী আলোর নীচে টেবিল ও চেয়ার বসানো। প্রায় ভর্তি জয়েন্টে ফ্রায়েড সীফুড আর পানীয়র গন্ধ ম' ম' করছে। কি নেব কি নেব ভাবছি। এমন সময় সামনে এলেন তিনি। তাঁর অত্যুজ্জ্বল রূপ নিয়ে। বিদ্যুৎ রঙ, নীল ঝলমলে শাড়ি, শঙ্খশুভ্র দাঁত, চোখে হীরের কুঁচি। জানতে চাইলেন কি খাবো। আমি বিদ্যুৎস্পৃষ্ট। অবশ। চেতনা সম্পূর্ণ হারানোর আগে কি বলেছিলাম মনে নেই। দ্বিতীয় সন্ধ্যায় আর জয়েন্টের ভিতরে বসি নি। বীচের বালিতে চেয়ার টেবিল লাগিয়ে দিয়েছিল। সুস্বাদু ফ্রায়েড কিং ফিস আর কোকোনাট ফেনি। দারুণ খেয়েছি। তবে তাঁকে দেখি নি। দূরে সমুদ্রের কালো জল, ঢেউয়ের শব্দ। মাথায় ঝিমঝিম ভাল লাগা। কখন যে সমুদ্রকে পিছনে রেখে ডাঙার দিকে তাকিয়েছি জানি না। কিন্তু তাকিয়ে চোখ আটকে গেল। বীচের জয়েন্টগুলির আলোকমালা । অদ্ভুত সুন্দর দীপ হয়ে সব অন্ধকারে ফুটে আছে।

সমুদ্র থেকে বগমালো বীচে ফুড জয়েন্টের আলোকমালা

সমুদ্র থেকে বগমালো বীচে ফুড জয়েন্টের আলোকমালা

এরপরেও গিয়েছি বগমালো বীচে। যদি তাঁর দেখা পাওয়া যায়। একদিন গেলাম নিশুত রাতে। বন্ধুবর অভয় দিয়েছিলেন রাতেও চলাফেরা নিরাপদ। লেট নাইট ডিনার করবো সী বীচে, এই প্ল্যান ছিল। খাবারদাবার সঙ্গে নিয়ে যখন হাজির হলাম বগমালো বীচে, তখন চারিদিক শুনশান। জনশূন্য বীচ। জয়েন্ট গুলোর আলো নিবে গেছে। তারারা সেদিন আকাশে আলো জ্বালায় নি। অন্ধকারে সমুদ্র নিকশ কালো। এলোমেলো হাওয়া আর ঢেউয়ের শব্দ। বীচের উপর পড়ে আছে একটা নৌকা, একটু কাত হয়ে। পরিত্যক্ত, কিম্বা দিনের খাটুনির পর বিশ্রামরত। নৌকোর খোলে বসে আমরা ডিনার সেরেছি। স্তব্ধ চরাচর। আমি প্রতীক্ষায় থেকেছি। তিনি যদি আসেন। হঠাৎ দেখি দুটি সারমেয়। ঐ অন্ধকার রাতে ভেজা বালির উপর ছুটছে। ইতস্তত: ছোটা, দ্রুতগতিতে। কৌতূহলবশে কাছে গিয়ে দেখি এ তাদের নিছক খেলা নয়। বেঁচে থাকার লড়াই, শিকার ধরার দৌড়। লাল কাঁকড়া তাড়া করে যাচ্ছে, আর দ্রুততর গতিতে কাঁকড়া ঢুকে পড়ছে গর্তে। বেচারা যে দু চারটি কাঁকড়া হেরে যাচ্ছে গতিতে, খাদ্য হচ্ছে সারমেয় যুগলের। শিকার ধরার সাকসেস রেট যদিও খুব পুওর, তবু ক্লান্তি নেই সারমেয় যুগলের। শিকার ধরার ছুট, অবিরাম। বাঁচতে হবে তো।

সতত সঞ্চরণশীল আমি। ভৌগলিক অর্থে বা মনে মনে। কিন্তু পকেটে দ্রষ্টব্য স্থানের তালিকা নেই। আমি শুধু তাকিয়ে বেড়াই। কখন কি চোখে আটকায়। তখন তা মনে গেঁথে নাও। দৃশ্যমান বস্তু সম্পর্কে জানার স্পৃহাও অনেকসময় হয় না। কি হবে সবকিছু জেনে? তথ্য ও জ্ঞান, আমার ভাললাগার ওপর অনাবশ্যক বোঝা হবে না তো?

এক ঝকঝকে সকালে চলেছি বাগা বীচের উদ্দেশে। কিন্তু রাস্তায় আটকে গেলাম। রাস্তার ডানদিকে ঈশ্বরের বাড়ি। অপরূপ হীরকদ্যুতি নিয়ে একটি চার্চ। গাড়ি থেকে নেমে রাস্তা পার হয়ে সামনে দাঁড়িয়েছি। সেখানে আমার প্রবেশাধিকার নেই। তাই বাইরে দাঁড়িয়ে ছবি তুলেছি।

ঈশ্বরের বাড়ির বাইরে দাঁড়িয়ে

ঈশ্বরের বাড়ির বাইরে দাঁড়িয়ে

তুষারশুভ্র অবয়ব আর প্রাচীর। লম্বা নারকেল ও দেবদারু গাছে আংশিক ঘেরা। বিমুগ্ধ আমি নিশ্চিত ঈশ্বর এখানে থাকেন। শুধু দেখতে পাই না। ঈশ্বরের দেখা পাওয়া সহজ নয়।

তুষারশুভ্র ঈশ্বরের বাড়ি

তুষারশুভ্র ঈশ্বরের বাড়ি

বাগা বীচে পৌঁছেছি দ্বিপ্রহরে। বাগা গোয়ার অন্যতম ব্যস্ত বীচ। প্রখর রোদ। সাদা বালি-সমুদ্র, তাকানো যায় না। চোখ ঝলসে যায় যেন। কিন্তু সারি সারি ফুড জয়েন্টে লোকের মেলা।

বাগা বীচে ব্যস্ততা

বাগা বীচে ব্যস্ততা

আর রকমারি Water sports ঘিরে উৎসাহী পর্যটকদের ভীড়, ছুটোছুটি। কি নেই সেখানে। Banana Boat Ride, Water Scooter, Jet Ski, Parasailing| আমার বয়সে যা স্বাভাবিক, আমি চুপ করে বসে গেছি এক ফুড জয়েন্টে।

বাগা বীচ – চুপ করে বসে গেছি এক ফুড জয়েন্টে

বাগা বীচ – চুপ করে বসে গেছি এক ফুড জয়েন্টে

আমাদের তরুণী সহযাত্রী, বুকভরা তার সাহস। বললো, Parasailing না করলে এখানে আসাই না কি বৃথা। প্যারাশুট ধরে ঝুলে সে এক সময় দূরে অদৃশ্য হয়ে গেল। ফিরে যখন এলো, চুলে বারিকণা, মুখে তৃপ্ত বিজয়িনী হাসি। বুঝলাম, ত্রিশ বছর আগে আমার আসা উচিত ছিল এখানে।

বাগা বীচে দুপুর কাটিয়ে বিকেলের মুখে গিয়েছিলাম আঞ্জুনা বীচে। সামনে আরব সাগর আর পিছনে পাহাড়, আঞ্জুনা সমুদ্রসৈকতটিকে যেন ঘিরে রেখেছে। ছড়ানো ছিটানো কালচে লাল পাথর। রুক্ষ–পাথুরে সমুদ্রতটে এক রেস্তরাঁতে আমরা চুপটি করে বসেছিলাম। গোল টেবিল ঘিরে চেয়ার পেতে।

আঞ্জুনা বীচে টেবিল ঘিরে চেয়ার পেতে

আঞ্জুনা বীচে টেবিল ঘিরে চেয়ার পেতে

প্রয়োজনে মাথার ওপর মস্ত ছাতা খোলা যায়। আমাদের সামনেই খুব কাছে, ঢেউ এসে ভেঙ্গে পড়ছে প্রকান্ড পাথরে। কয়েকগজ পিছনেই গুটিকয়েক লজ। লোভ হল, আহা এখানে যদি দিন দুয়েক থাকতে পারতাম! বিকেল আস্তে আস্তে নরম হয়ে আসছে।

আঞ্জুনা বীচে নরম বিকেল

আঞ্জুনা বীচে নরম বিকেল

আমি অবাক চোখে দিগন্তে তাকিয়ে। কলকাতায় অনেক দূরে বাড়ি, আমার আত্মীয় পরিজন, সংসারের ছোটবড় বহুবিধ সমস্যা, সবকিছুই কি অপসৃত হল কয়েক মুহূর্তের জন্য? সূর্য তখন অস্তাচলে। সমুদ্র ও আকাশ দুটিকেই ছুঁয়ে আছে সে। এমন সূর্যাস্ত কোথায় দেখেছি আর!

সূর্যাস্ত আঞ্জুনা বীচে

সূর্যাস্ত আঞ্জুনা বীচে

পানাজি না এলে গোয়া ভ্রমণ অসম্পূর্ণ থেকে যেত। পানাজি, যা পানজিম নামেও পরিচিত, গোয়ার রাজধানী। গোয়ার বৃহত্তম শহর। দর্শনীয় স্থান অনেক। সোপান বিধৃত পাহাড়, জঙ্গলের পথে আডভেঞ্চার, নদীর ধার ঘেঁষে বিহারপথ, মন্দির, চার্চ, দুর্গ, নির্জন বীচ, কত কি। আমার মন টানলো শহরের রাস্তা আর দোকানপাট। পায়ে হেঁটে ঘুরলাম খুব, ক্লান্ত হয়ে কফি খেলাম, আর তারপর একটা গোটা জাহাজকে ধরে ফেললাম ক্যামেরায়।

পানাজির রাস্তা থেকে

পানাজির রাস্তা থেকে

কিন্তু ভাস্কোয় মজেছে মন। ওখানেই যে আস্তানা গেড়েছিলাম। রাস্তা ধরে অনেক হেঁটেছি। টুকটাক কেনাকাটা। অতি সুস্বাদু পেস্ট্রি, বেবিনকা কেক খেয়ে রসনা তৃপ্ত হয়েছে। বন্ধু পরিজনদের জন্য সুভেনির কিনেছি। রকমারি ওয়াইন, সুগন্ধি গরম মশলা। কিন্তু কি এক অভূতপূর্ব দৃশ্য আমার জন্য ভাস্কোয় অপেক্ষা করছিল আমি অনুমান করতে পারি নি।

ফেব্রুয়ারীর এক বিকেলে দামামা বাজিয়ে সে উপস্থিত হল ভাস্কোর রাজপথে।

দামামা বাজিয়ে সে উপস্থিত হল ভাস্কোর রাজপথে

দামামা বাজিয়ে সে উপস্থিত হল ভাস্কোর রাজপথে

শব্দ শুনে ছুটে গেছি ব্যালকনিতে। নীচে বহমান দৃশ্য, মানুষের, বাহনের, কত বর্ণের, কত ধরনের। গোয়া কার্নিভাল (Goa Carnival)। এইসময়েই হয় না কি? কিছুই জানতাম না। সে কত বিভিন্ন রূপের ট্যাবলো। আমি দৌড়ে রাস্তায় নেমে গেছি ক্যামেরা হাতে। পথজুড়ে চলেছে শোভাযাত্রা।

শোভাযাত্রা – কত মানুষের, কত বেশে

শোভাযাত্রা – কত মানুষের, কত বেশে

বাহনের কত চমৎকারিতা। বেমানান ছোট দ্বিচক্রযানে আসীন হয়ে এক রমণী শোভাযাত্রার সঙ্গে এলেন। অবাক করলেন সবাইকে।

বাহন – কত ধরণের

বাহন – কত ধরণের

বাহনের রঙ্গেরই বাহার কত। সুবেশা নারীরা ফুলের ডালি নিয়ে এলেন। ঊজ্জ্বল রঙ্গিন ফুলের বাগান ধীরগতিতে এগিয়ে চললো। আমরা অপলকে তাকিয়ে।

বাহন - কত বর্ণের

বাহন - কত বর্ণের

কত মানুষের বহুরুপী সাজ। বাধাহীন কল্পনায় তাঁরা সেজেছেন। তাঁদের বিবিধ সাজ ও অভিনয়ের অভিব্যক্তি নিয়ে এল আনন্দের ঝর্ণা। হাসি আর মজা ছুঁয়ে গেল সকলকে।

বহুরূপী সাজে

বহুরূপী সাজে

এ কার্নিভালের কত যে বৈচিত্র্য। একদল মানুষ এলেন তাঁদের সাবেক পোষাকে। সঙ্গে নিয়ে এলেন তাঁদের কথা – তাঁদের জীবিকার চিত্র।

তাঁদের কথা

তাঁদের কথা

পথের দু’ পাশে কৌতূহলী জনতার ভীড় ক্রমশঃ বাড়ছে। এরই মাঝে তিনি আবির্ভূত হলেন দেবীরূপে। বর্ণাঢ্য রথে। অবাধ্য সেই জনতাকে দু হাতে সরিয়ে আমি দেবীর মুখখানা জুম করে ধরার চেষ্টা করি। কিন্তু রথ যে এগিয়ে যায়। বেপরোয়া আমি প্রায় ছুটতে থাকি ক্যামেরা তাক করে। কিন্তু পথ আগলে দাঁড়ায় জনতা। অক্ষম আমি তাল রাখতে পারি না। দেবী দর্শনের কিছু মুহূর্ত ক্যামেরা-বন্দী হল কি? তাঁর অপসৃয়মান রথের দিকে তাকিয়ে থাকি আমি। অতৃপ্ত, আশাহত। ওঁর চলে যাওয়ার পর গোধূলি নেমে এল পথে।

দেবী চলেছেন রথে

দেবী চলেছেন রথে

গোয়া থেকে ফেরার পথে বিমানে একটু চোখ লেগে গিয়েছিল। তন্দ্রা বা স্বপ্নের মধ্যে তাঁর গলা শুনতে পেলাম।

দেখেছিলে আমায়?

  • না, ও হ্যাঁ। তোমার বাড়ির দরজা বন্ধ ছিল। বগমালো বীচে একদিন, আর ভাস্কোর কার্নিভালে রথে, এক দেবীকে দেখেছিলাম। তুমিই কি সেই?
  • হ্যাঁ আমিই।
  • কিন্তু সে খুব অল্প সময়ের জন্য। তুমি অন্তর্হিত হয়ে গেলে। কেন তুমি অদৃশ্য হয়ে যাও?
  • ঐ মুহূর্তগুলোর কথা ভাব। কি অনুভব করেছ তখন?
  • তুমি অপরূপ। তোমাকে এক ঝলক দেখেই আমি অপার আনন্দে অবশ হয়েছি । বিস্মৃত হয়েছি সবকিছু, এমনকি নিজের অস্তিত্বটুকুও।

এইসব মুহূর্তগুলোর জন্যই জীবনে বেঁচে থাকা।

Excuse me Sir. Please fasten your seat belt. Shortly we shall be landing at Chhatrapati Shivaji International Airport, Mumbai. বিমানসেবিকার কথায় তন্দ্রা ভেঙ্গে গেল। জানালা দিয়ে নীচে তাকিয়েছি। নীল সমুদ্রের ওপর বাঁক নিয়ে আমাদের বিমান নীচে নামছে।

কলকাতায় ফিরে গোয়ার কথা ভেবেছি, ছবিগুলো ঘুরিয়ে ফিরিয়ে দেখেছি অনেকবার। এরপর আর যাই নি গোয়ায়। ঈশ্বরের কাছ থেকে পাওয়া গোয়ার সেই মুহূর্তগুলো মনের মধ্যে সযত্নে রেখেছি।


How to reach Goa from Mumbai:

  • By Air – 435 kms. There is direct flight between Mumbai and Goa. Mumbai to Goa flight time is about 1 hour 15 minutes.
  • By road – 609 km. There is direct bus service between Mumbai and Goa. One way journey time varies from 12 to 16 hours.
  • By Train – 632 kms. There is direct train service between Mumbai and Goa. Mumbai-to-Goa journey time, depending on train, varies from about 9 to 12 hours.
Trip time: 
February 2010
Trip name: 
Location: 
Final destination: 
Category: 
Location map: 
Vasco da Gama GA
India
15° 23' 9.7188" N, 73° 50' 38.544" E
Goa IN